বাংলদেশের
সঙ্গে সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণে আগ্রহী ফিলিপাইন
কূটনৈতিক
প্রতিবেদক
প্রকাশ: রোববার, ৩১ আগস্ট, ২০২৫,
৭:২০ পিএম (ভিজিট : ১৫৫)
বাংলাদেশ-ফিলিপাইনের সম্পর্ক অনেক পুরোনো। দুই
দেশের মধ্যে পাঁচ দশকের ইতিহাস
রয়েছে। দুইপক্ষের মধ্যে সমুদ্র, পরিবেশ, পানি, জলবায়ু, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, অর্থনীতি ও টেক্সটাইলসহ নানা
খাতে সহযোগিতা বিদ্যমান। আগামী দিনে এসব খাতে
সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণে আগ্রহী
ফিলিপাইন।
ঢাকায়
নিযুক্ত ফিলিপাইনের রাষ্ট্রদূত নিনা পি ক্যাইনলেট
রোববার (৩১ আগস্ট) এমন
মন্তব্য করেন। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড
স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) আয়োজিত এক সেমনিারে ফিলিপাইনের
রাষ্ট্রদূত এমন মন্তব্য করেন।
ফিলিপাইনের
রাষ্ট্রদূত নিনা ক্যাইনলেট বলেন,
বাংলাদেশ ও ফিলিপাইন কীভাবে
বিভিন্ন খাতে আরও ঘনিষ্ঠ
হতে পারে, তা নিয়ে আমরা
কাজ করব। জ্বালানি, কৃষি
এবং শিক্ষার মতো খাতে বৃহত্তর
সহযোগিতার সম্ভাবনা রয়েছে। আমরা মেরিটাইম
কো-অপারেশনের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা বিনিময় করতে পারি,
এ বিষয়ে বাংলাদেশের আগ্রহ আছে। এছাড়া মেরিটাইম শিপিং, নবায়নযোগ্য
জ্বালানি, জ্বালানি
নিরাপত্তা, জলবায়ু মোকাবিলা বিশেষ
করে বন্যা মোকাবিলায় সহযোগিতা করতে পারি।
সম্প্রতি
কক্সবাজারে অনুষ্ঠিত রোহিঙ্গা ইস্যুতে অংশীজনদের নিয়ে
আয়োজিত সংলাপের
প্রসঙ্গ টেনে রাষ্ট্রদূত
বলেন, বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা রোহিঙ্গা সংকট
সমাধানে সাত দফা
প্রস্তাব করেছেন।
রোহিঙ্গা ইস্যুতে সামনে উচ্চপর্যায়ের সংলাপ হবে, সেখানে আসিয়ানের (দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট) অংশগ্রহণ থাকবে।
আঞ্চলিক সহযোগিতা নিয়ে
রাষ্ট্রদূত বলেন, আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পৃক্ততা
আঞ্চলিক শান্তি, সমৃদ্ধি এবং টেকসই প্রবৃদ্ধিতে
অবদান রাখবে।
সাংবাদিকদের
এক প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রদূত নিনা পি ক্যাইনলেট
বলেন, ভিসা সহজ করলে
অনেক কিছু সহজ হয়ে
যায়। তবে এটা একটি
চলমান প্রক্রিয়া। আমরা একবারই একটি
করে পদক্ষেপ নিই, কীভাবে ভিসানীতি
সহজ করা যায়, তার
সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার।
ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. দেলোয়ার হোসেন
সেমনিারে স্বাগত বক্তব্যে বাংলাদেশ ও ফিলিপাইনের মধ্যে
ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন।
তিনি দুই দেশের মধ্যে
বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ এবং সামুদ্রিক সহযোগিতার
নতুন মাত্রা অন্বেষণের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
পাশাপাশি ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের পরিবর্তিত ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে
কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক
জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ
করেন।
বিআইআইএসএস-এর মহাপরিচালক মেজর
জেনারেল ইফতেখার আনিস অনুষ্ঠানে সূচনা
বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠান
সঞ্চালনা করেন সাবেক
ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিব মো. রুহুল
আলম সিদ্দিক। উন্মুক্ত আলোচনা পর্বে সরকারি কর্মকর্তা, কূটনীতিক, শিক্ষাবিদ, গণমাধ্যম প্রতিনিধি, গবেষক ও শিক্ষার্থীরা অংশ
নেন।